জুলাই গণআন্দোলনে গুলিতে নিহত কুমিল্লার বিশিষ্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেয়র তাহসীন বাহার সূচির বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা এবং হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক এজাহারে তাদের নাম না থাকলেও, গ্রেপ্তার আসামিদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি ও তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে।
অভিযোগপত্রে আরও অন্তর্ভুক্ত হয় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ইসতিয়াক সরকার বিপুর নাম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. মাহিনুল ইসলাম রবিবার দুপুরে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এতে মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন ইতিমধ্যে কারাগারে আছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. বাচ্চু ওরফে কালা বাচ্চু জেলহাজতে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রধান আসামি হিসেবে নাম রয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ রায়হান আহম্মেদের। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত প্রমাণের মধ্যে রয়েছে নিহত আজাদের শরীর থেকে উদ্ধার ১৪টি পিলেট, ঘটনার ভিডিও-ছবি, পত্রিকার কাটিং, লাইসেন্সকৃত একটি শটগান ও আংশিক গুলি, এবং আসামিদের মোবাইল ফোনের তথ্য। এ মামলায় মোট ৪৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এবং তাদের প্রতি সমন জারির আবেদন করা হয়েছে।