মদিনার ইহুদি গোত্র বনু জুরাইজের মিত্র, মুনাফিক লাবিদ ইবন আসিম তাঁর মেয়েকে দিয়ে মহানবী (সা.)-এর মাথার ছেঁড়া চুল ও চিরুনির দাঁত চুরি করিয়ে তাতে জাদু করে এবং মন্ত্র পাঠ করে চুলে ১১টি গিরা দেয়। এর ফলে মহানবী (সা.) কোনো কাজ করলে ভুলে যেতেন এবং ভাবতেন তিনি তা করেননি। এই অবস্থা প্রায় ৪০ দিন বা ছয় মাস স্থায়ী হয়।
এক রাতে স্বপ্নে মহানবী (সা.) দেখেন—দুজন ব্যক্তি এসে একজন তাঁর মাথার কাছে, আরেকজন পায়ের কাছে বসেছে। তারা জানায়, বনু জুরাইজের খেজুর বাগানের যারওয়ান কুয়ার তলদেশে পাথরের নিচে রাখা শুকনো খেজুরের কাঁদির খোসার মধ্যে সেই জাদুকৃত চুল ও চিরুনির দাঁত লুকানো আছে। ওটা তুলে এনে গিরা খুলে ফেলতে হবে। পরদিন মহানবী (সা.) আলী (রা.)-কে সেখানে পাঠান। নির্দেশমতো তা উদ্ধার করে আনা হয় এবং তিনি নিজ হাতে গিরাগুলো খুলে ফেলেন।
এই সময় আল্লাহ সুরা ফালাক ও নাস নাজিল করেন। প্রতিটি আয়াত পাঠের সঙ্গে সঙ্গে একটি করে গিরা খুলতে থাকে, আর শেষ আয়াতের সঙ্গে সব গিরা খুলে যায়। এর পর মহানবী (সা.) সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
প্রতিশোধের প্রস্তাব এলে তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দিয়েছেন। আমি চাই না যে মানুষের মধ্যে মন্দ ছড়িয়ে পড়ুক।” (বুখারি, হাদিস: ৬৩৯১)
জাদুর উদ্দেশ্য
ইহুদি ও মুনাফিকরা চেয়েছিল মহানবী (সা.)-কে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দাওয়াতি কাজ থামিয়ে দিতে, ইসলামের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে এবং তাঁর সুনাম নষ্ট করতে। কিন্তু আল্লাহ তাঁর রাসুলকে রক্ষা করেন। কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— “আমি আমার রাসুলদের ও মুমিনদের রক্ষা করি; এভাবে রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।” (সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০৩)
জাদুর প্রভাব কেন হয়েছিল
যেমন আগুন পোড়ায় বা পানি ভেজায়, তেমনি জাদুরও একটি স্বাভাবিক প্রভাব আছে। নবীরা মানুষ ছিলেন, তাই প্রাকৃতিক প্রভাব থেকে তাঁরা পুরোপুরি মুক্ত নন। তবে আল্লাহর হুকুমে এই জাদু মহানবী (সা.)-এর আত্মিক ও জ্ঞানগত ক্ষতি করতে পারেনি। ওহির প্রচার ও প্রসারে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। শুধু ব্যক্তিগত জীবনে সাময়িক স্মৃতিভ্রম হয়েছিল, যা দ্রুত সেরে যায়। আয়েশা (রা.) বলেন, কখনো মহানবী (সা.) মনে করতেন তিনি স্ত্রীদের কাছে গেছেন, অথচ বাস্তবে যাননি—এটাই ছিল জাদুর চরম প্রভাব।
শেষ পর্যন্ত আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে প্রিয় নবীকে সুস্থ করে দেন এবং শত্রুর কুপরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।