Indian devotees greeting the tourists from Yemen after offering Namaz at Jama Masjid on the occasion of Id-ul-Fitr in Delhi on October 24, 2006..
সমাজে নানা ধরনের মানুষ বসবাস করে—কারও সঙ্গে আমাদের চিন্তা ও রুচি মিলে যায়, আবার অনেকের সঙ্গে তা নাও মিলতে পারে। তবুও সবাই মিলে আমরা এক সমাজে বসবাস করি। প্রতিবেশীর মঙ্গল কামনা করি, দোয়া করি তারা যেন কোনো বিপদে না পড়ে। এটাই মানবিকতা, এটাই ইসলামি আদর্শ।
আল্লাহর প্রিয় রাসুল (সা.) বলেন, “যখন তুমি শুনবে তোমার প্রতিবেশীরা তোমাকে ভালো বলছে, তখন বুঝবে তুমি ভালো মানুষ। আর যখন তারা তোমাকে খারাপ বলছে, তখন বুঝবে তুমি খারাপ।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৩৮০৮)
কোরআনে হজরত সুলাইমান (আ.)-এর একটি অনন্য ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে পশুপাখির ভাষা বোঝার শক্তি দিয়েছিলেন। একবার তিনি সেনাবাহিনী নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে পিঁপড়ার একটি ছোট্ট দল ছিল। তাদের রানি সতর্ক করে বলল, “তোমরা দ্রুত বাসায় ঢুকে পড়ো, হজরত সুলাইমান (আ.) ও তাঁর বাহিনী তোমাদের না দেখে পিষে ফেলতে পারে।” (সুরা নামল, আয়াত: ১৮)
এই পিঁপড়ার রানির নিজের জাতির নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার বিষয়টি আল্লাহ এতটাই পছন্দ করলেন যে, তা কোরআনে তুলে ধরলেন এবং একটি সুরার নামও করলেন “সুরা নামল”, অর্থাৎ পিঁপড়া।
আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনীতে এমন মানবিক গুণাবলির অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তিনি সব সময় মানুষকে গুরুত্ব দিতেন। কোনো মুসলমানকে টানা তিন দিন মসজিদে না দেখলে তিনি খোঁজখবর নিতেন। যদি জানতে পারতেন, সে ব্যক্তি সফরে আছে, তাহলে তার জন্য দোয়া করতেন। আর যদি শুনতেন সে শহরে আছেন কিন্তু মসজিদে আসতে পারছেন না, তাহলে নিজে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতেন। অসুস্থ হলে তার সেবা করতেন। (আখলাকুন নবী, হাদিস: ১৫৯)
আরেকদিন, ফজরের নামাজে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বাভাবিকের তুলনায় খুব দ্রুত নামাজ শেষ করেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “নামাজের মধ্যে আমি একটি শিশুর কান্না শুনেছি। মনে হয়েছে, তার মা নামাজে থাকলেও সন্তানের জন্য উদ্বিগ্ন। তাই দ্রুত নামাজ শেষ করেছি।” (আখলাকুন নবী, হাদিস: ১৫৭)
ভাবুন তো, একজন মায়ের দুশ্চিন্তা দূর করতে রাসুল (সা.) নামাজের কেরাত সংক্ষিপ্ত করলেন—এটাই তাঁর মানুষের প্রতি মমত্ববোধ।
আরেকজন সাহাবি, মিকদাদ বিন আমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) যখন রাতে মসজিদে ঘুমিয়ে থাকা কাউকে সালাম দিতেন, তখন এত আস্তে বলতেন যেন ঘুমন্তরা না জাগে, শুধু সেই মানুষটিই শুনতে পারে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২০৫৫)
এগুলোই ইসলামি আদর্শের প্রকৃত রূপ—অন্যের আরাম-অসুবিধা সবসময় বিবেচনায় রাখা, কষ্ট না দেওয়া, বরং যতটা সম্ভব সহজ করে দেওয়া। সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল চাবিকাঠিও এখানেই।