শিশুরা সারাক্ষণ খেলাধুলা আর দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত থাকে। তাই নানা ধরনের সংক্রমণ লেগেই থাকে তাদের। কখনো ঠাণ্ডা লেগে জ্বর-সর্দি-কাশি, আবার কখনো পেটের সমস্যা। মৌসুম পরিবর্তনেও অসুস্থতা বাড়ে। এতে মা-বাবা সবসময়ই দুশ্চিন্তায় থাকেন। অনেকেই বলেন, ঠিকভাবে খাওয়াদাওয়া ও ওষুধ চললেও সন্তান বারবার অসুস্থ হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের কিছু দৈনন্দিন ভুলই শিশুর অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
🔹 হাত-পা ভালোভাবে না ধোয়া
স্কুল থেকে ফিরে বা বাইরে খেলে এলে হাত-পা ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধোয় কি না শিশু? না ধুলে জীবাণু সহজেই শরীরে ঢুকে যায়। বাইরে হাঁচি-কাশি করা মানুষের শ্বাসবায়ুর মাধ্যমেও জীবাণু ছড়ায়। তাই হাত সবসময় ভালোভাবে ধুতে হবে। প্রয়োজনে শিশুর ব্যাগে ছোট স্যানিটাইজার রাখুন এবং টিফিন খাওয়ার আগে ব্যবহার করতে শিখিয়ে দিন।
🔹 অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ব্যবহার
শিশুদের টয়লেট ট্রেনিং যথাযথ না হলে শৌচাগার ব্যবহারে অসাবধানতা দেখা দেয়। স্কুলের গণশৌচাগার অপরিচ্ছন্ন হলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) হতে পারে। তাই শেখাতে হবে টয়লেট সিট টিস্যু দিয়ে মুছে বা স্যানিটাইজার স্প্রে করে বসতে, টয়লেটের পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুতে। স্কুলে সাবান না থাকলে সোপ পেপার বা হ্যান্ডওয়াশ সঙ্গে দিতে হবে।
🔹 খোলা খাবার খাওয়া
দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা খাবার না খাওয়াই ভালো। টিফিন বাক্স বন্ধ রাখতে হবে। মাটিতে পড়ে যাওয়া খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না। সালাদ বা ফল ভালোভাবে ধুয়ে দিতে হবে এবং খালি পেটে ফল বা দই না খাওয়ার পরামর্শ দিন।
🔹 মুখ না ঢেকে হাঁচি-কাশি
শিশুরা মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশির বিষয়ে সচেতন নয়। তাদের শেখাতে হবে, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকতে এবং সবসময় রুমাল ব্যবহার করতে। এছাড়া, মুখে বা নাকে বারবার হাত দেওয়া থেকেও জীবাণু ছড়ায়।
🔹 জাঙ্ক ফুড খাওয়া
শিশুর বায়না মেনে বাইরে থেকে চিপস, আইসক্রিম, শরবত কিনে খাওয়ানো উচিত নয়। এতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে।
🔹 পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
শিশুকে পর্যাপ্ত পানি খাওয়াতে হবে। পানি কম খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, প্রস্রাব কম হয়, বমি ভাব আসে এবং জিভ ও মুখ শুকিয়ে যায়।
মনে রাখুন, এসব ছোটখাটো অভ্যাসই শিশুকে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। মা-বাবার সচেতনতাই সন্তানকে রাখবে রোগমুক্ত।