তেলের দাম কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব, আপত্তি ব্যবসায়ীদের
ভোজ্যতেলের দাম কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ আপাতত আটকে গেল ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার পর আগামী শনিবার (১৩ জুলাই) নতুন করে আরেকটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন এবং সিটি, মেঘনা, টি কে ও বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।
বৈঠকে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে গত এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ১০.৭ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে পাম অয়েলের দাম কমেছে ৩ শতাংশ। এ অনুযায়ী, খোলা পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটারে ১৯ টাকা এবং সয়াবিন তেলের দাম ১ টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
তবে ব্যবসায়ীরা প্রতিবেদনটির বিরোধিতা করেন। তারা দাবি করেন, কমিশনের হিসাব আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেনি এবং সেখানে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে প্রযোজ্য ভ্যাট বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাই দাম কমানোর প্রস্তাব অবাস্তব।
মেঘনা গ্রুপের ডিজিএম তসলিম শাহরিয়ার বলেন, “বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম প্রায় ১,১০০ ডলার। অথচ ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে তা সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দাম কমানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা যৌক্তিক নয়।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সার্বিক বিষয়টি নতুন করে বিশ্লেষণ করে ২৭ জুলাই আবার আলোচনা করা হবে।