কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় তাফরুল ইসলাম সৈকত (১৯) নামে এক অটোচালক হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর র্যাব-১১ এর অভিযানে ধরা পড়েছে প্রধান আসামিদের একজন, তুহিন মজুমদার (৩২)।
র্যাব জানায়, গত ২ জুলাই ২০২৫ বিকেলে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সৈকত। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৩ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চৌদ্দগ্রামের মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাহেরগড়া এলাকার নাঙ্গলিয়া খালপাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ৫ জুলাই চৌদ্দগ্রাম থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৭)।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর র্যাব-১১, সিপিসি-২ (কুমিল্লা) গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তি ও তথ্যের সহায়তায় জানা যায়, তুহিন মজুমদার বসন্তপুর এলাকায় অবস্থান করছে। ৭ আগস্ট রাতে র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তিনি বসন্তপুর গ্রামের বাবুল মজুমদারের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, তার ও সহযোগীদের সঙ্গে সৈকতের পূর্বে সুসম্পর্ক ছিল। সেই সুযোগে তারা অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ২ জুলাই রাতে তারা সৈকতকে নাঙ্গলিয়া খালপাড়ে নিয়ে গল্প করতে বসে। একপর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লুকানো চাপাতি দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অটো নিয়ে পালিয়ে যায় এবং মরদেহ খালে ফেলে দেয়। গ্রেফতারকৃত তুহিনকে চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।