আবু আইউব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! এমন কোনো আমল বলুন, যা করলে আমি জান্নাতে যেতে পারি।” তখন উপস্থিত মানুষরা বললো, “একে কী হয়েছে? একে কী হয়েছে?” রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “এর একটি প্রয়োজন আছে।” এরপর তিনি বললেন,
➤ “তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করবে না, নামাজ কায়িম করবে, জাকাত আদায় করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে।”
– (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৩)
মূল বার্তাগুলোঃ
🔹 তাওহিদ (একত্ববাদ) প্রতিষ্ঠা
আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত না করা ও কাউকে তাঁর সঙ্গে অংশীদার না করা ইসলামের প্রধান ভিত্তি। এটি জান্নাতে প্রবেশের সর্বপ্রথম শর্ত।
🔹 নামাজ কায়িম করা
শুধু নামাজ পড়া নয়, বরং সময়মতো, মনোযোগের সঙ্গে ও নিয়মিতভাবে নামাজ আদায় করা। নামাজই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সংযোগের মূল মাধ্যম।
🔹 জাকাত আদায় করা
ধনীদের জন্য ফরজ এই আর্থিক ইবাদত সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনে, দরিদ্রের কষ্ট লাঘব করে এবং সহানুভূতি তৈরি করে।
🔹 আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা (সিলাতুর রাহিম)
আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর রাখা, সাহায্য করা, সম্পর্ক ভালো রাখা এবং মনোমালিন্য দূর করা – এগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
এই হাদিস আমাদের শেখায়, শুধু ইবাদত নয়; বরং আল্লাহর হক এবং মানুষের হক – উভয়ই যথাযথভাবে পালন করলেই একজন প্রকৃত মুসলিম জান্নাতের আশা করতে পারে। ইসলামী জীবনবিধান তাই ইবাদত ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করে।